পুলিশকে ‘পিছিয়ে দিচ্ছে’ লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি, ১২ হাজার যানবাহন নিয়ে চলছে পুলিশ

ফাইল ছবি।

সারাবিশ্বডটকম অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের ৩৬টি মূল ইউনিটের রয়েছে ১৭৮টি কার্যালয়। এরমধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী ৪৬৪টি থানা। মোট জনবল এখন পর্যন্ত ২ লাখ ১৩ হাজার। নাগরিকদের নিরাপত্তা, সড়কের নিরাপত্তা মামলার তদন্ত, জননিরাপত্তা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়লেও যানবাহন নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝক্কি-ঝামেলায় পড়তে হয় এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। যানবাহন ঘাটতির জন্য পুলিশি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ তাদের।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্য বলছে, অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের ১১ হাজার ৯২৩টি যানবাহন রয়েছে। এরমধ্যে মোটরসাইকেল ৬ হাজার ৪৪৫টি। পাজেরো, প্রাইভেটকার, পিকআপ, ডাবল পিকআপ ভ্যান রয়েছে ৫ হাজার ৪৭৮টি। প্রায় সাড়ে চার হাজার যানবাহনের ঘাটতি রয়েছে।

এছাড়া এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অকেজো ঘোষিত ২ হাজার ৭৬৩ যানবাহনের মধ্যে ১ হাজার ৯৮৮টি যানবাহন বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, যার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। ২০ বছরের বেশি পুরাতন যানবাহনের মধ্যে ৭৩৮টি যানবাহন অকেজো ঘোষণার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যানবাহনগুলো অকেজো ঘোষিত না হওয়ায় বর্তমান যানবাহন ক্রয় কার্যক্রম শুরু করাও যাচ্ছে না।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, গত তিন অর্থবছরে মোট কেনা যানবাহন ১ হাজার ১৭টি, এরমধ্যে মোট মোটরসাইকেল কেনা হয় ৬৬৫টি। ইতোমধ্যে শতাধিক পদ সৃষ্টি করে পুলিশ সুপার (এসপি), অতিরিক্ত উপ মহাপুলিশ পরিদর্শক (এডিশনাল ডিআইজি), উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) পদে পদোন্নতি হয়েছে। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের অনুকূলে যানবাহন বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৪২৩টি জিপের ঘাটতি রয়েছে, যা অনুমোদিত জিপের প্রায় অর্ধেক।

পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মেট্রোপলিটন ও জেলা সদর থানায় দুটি করে পিকআপ থাকলেও দেশের ১৯০টি থানায় এখনও একটি করে ডাবল কেবিন পিকআপ রয়েছে। একটি পিকআপ দিয়ে কোনোভাবেই থানায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

সূত্র জানায়, দেশের ভেতর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জানমাল, সরকারি সম্পত্তি, ভিভিআইপি, ভিআইপি ডিউটি পালন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইভেন্ট, কেপিআইসহ (গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও শিল্প কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। এ ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত করার কোনও সুযোগ নেই, বরং তা ক্রমবর্ধমান। তাই পুলিশের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য যানবাহন বাড়ানো জরুরি।

পুলিশ সদর দফতরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ২০২৩-এর শেষ কিংবা ২৪ সালের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য সময়ের চেয়ে পুলিশকে বেশি হারে মাঠে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্ব পালনের জন্য অপারেশনাল সক্ষমতা হিসেবে যানবাহন বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র আরও জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত বাজেটের ৪০ ভাগ, ২০-২১ অর্থবছরে ১৫ ভাগ, ২১- ২২ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত বাজেটের ৫০ ভাগ ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব বাজেটে যানবাহন হিসেবে জলযান ও আকাশযান কেনায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ১০০টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনায় সম্মতি পাওয়া গেছে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৭০৯টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন কেনা হয়েছিল, যা বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়া কোনোভাবেই রাজস্ব বাজেটের মাধ্যমে পুলিশের যানবাহন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া অ্যান্ড প্ল্যানিং বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইনামুল হক সাগর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার পুলিশের লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি করেছে। যানবাহনসহ বিভিন্ন বিষয়ের উন্নয়ন নিয়ে সরকার আন্তরিক রয়েছে। পুলিশ সক্ষমতার সঙ্গে জননিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’